মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য

সুজানগর উপজেলা পাবনা জেলার অন্তর্গত। পদ্মা নদী বাহিত পলিদ্বারা সৃষ্ট প্লাবন সমভূমির উপর অবস্থিত এ জনপদের অনেক সমৃদ্ধ এবং রয়েছে অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এগুলোর মধ্যে উল্যেখযোগ্য দুলাই আজিম চৌধুরীর জমিদার বাড়ীতাঁতিবন্দ বিজয় গোবিন্দ চৌধুরীর জমিদার বাড়ীনাজিরগঞ্জ ফেরিঘাটপুকুরনিয়া শাহমাহাতাব উদ্দিন আউলিয়ার মাজার শরীফবিল গাজনাএছারা আরেকটি গুরুত্বপূর্ন ঐতিহ্য হচ্ছে সুজানগর উপজেলার পিয়াজ। এটি সুজানগর উপজেলার একটি গর্ব। সুজানগর উপজেলায় প্রচুর পরিমানে পিয়াজ উৎপাদন হয় এবং বাংলাদেশের প্রত্যেক জায়গায় এখানথেকে সাপ্লাই দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী পিয়াজকে এখানকার প্রধান ব্যবসাও বলা যায়।

 

গাজনার বিল

 

 

সুজানগর উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ও দর্শনীয় স্থান হলো বিল গাজনা। এ বিলটি সুজানগর উপজেলার মাঝখানে অবস্থিত। বিলের চার ধারে সকল বসতি অবস্থিত। এ এলাকার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এই গাজনার বিলের মাধ্যমে। বিলগাজনাটি ছোট-বড় ১৬টি বিলের সমন্বয়ে গঠিত। এই বিলের আয়তন ০৭ একর। বিলটি বাদাইস্লুইজ গেটের মাধ্যমে পদ্মা নদীর সাথে সঙযুক্ত রয়েছে। বিলটি বর্ষাকালে অপরুপ সৌন্দর্য ধারন করে। বর্ষাকালে বহু দর্শক বিলটির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য এ স্থানে আগমন করেন। বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যায়। শুস্ক মৌসুমে বিলটি শুকিয়ে যায়। এ সময় এ বিলে ইরি ধান ও প্রচুর পেয়াজের চাষ হয়। এ বিলের খালগুলি খনন করলে সারা বছর পানি ও মা মাছ থাকবে। এতে মাছের উৎপাদন অনেক গুন বেড়ে যাবে। সুজানগরের ১০টি ইউনিয়নই এ বিলের সাথে সংযুক্ত।

 

 

দুলাই আজিম চৌধুরীর জমিদার বাড়ী(ডান পাশেরটি)

 

প্রায় আড়াইশো বছর আগে নির্মিত জমিদার বাড়ীটির ধ্বংসাবশেষ কালের স্বাক্ষী হিসাবে দন্ডায়মান। এই জমিদার বাড়ীতে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত মট, একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অট্টালিকা, ০৫টি পুকুর জরাজীর্ন অবস্থায় রয়েছে। আনুমানিক আড়াইশো বছর আগে উক্ত দুলাই গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে আজিম চৌধুরীর জন্ম হয়। তার পিতা রহিম উদ্দিন চৌধুরী তৎকালীন নাটোরে অবস্থিত রাজশাহী কালেক্টরেট অফিসের পেশকার ছিলেন। উক্ত রহিম উদ্দিন চৌধুরী বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেও প্রকৃত পক্ষে তার পুত্র আজিম চৌধুরীর সময়েই দুলাই সহ আশ পাশের এলাকায় তাদের জমিদারীর চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়। এই খ্যাতিমান পুরুষ তার সুদুর প্রসারী জ্ঞান এবং প্রজ্ঞাদ্বারা তৎকালে ঐ এলাকায় জমিদারিত্ব করার পাশাপাশি দুলাইতে ২/৩ টি নীল কুঠি স্থাপন করেন। ১২০ বিঘা জমির তিন ভাগের এক ভাগ জুড়ে নির্মান করেছিলেন অত্যাধুনিক ডিজাইনের দ্বিতল বহু দুয়ারি এবং বহু কক্ষের প্রাসাদতুল্য এই অট্টালিকা। ১১টি নিরাপত্তা গেট বেষ্টিত এ অট্টালিকার মূল গেটে দন্ডায়মান থাকত বিশাল আকৃতির দুটি হাতি। হাতি দুটিকে জমিদার বাড়ীর নিরাপত্তা প্রহরীর কাজে ব্যবহার করা ছাড়াও আজিম চৌধুরীর ভ্রমন বাহন হিসাবে ব্যবহার করা হত। মনোলভা সৌন্দর্য মোহিত বিলাসবহুল এ অট্টালিকার চারদিকে পরিবেষ্টিত ৬০ বিঘার একটি দর্শনীয় দীঘি। নিরাপত্তা বিধানে হাতি ছাড়াও ছিল দুটি আধুনিক স্বয়ংক্রিয় কামান। বাড়ীর অভ্যন্তরে একটি মসজিদ, জমিদার দরবারে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের গোসলের জন্য একটি বিশাল পুকুর এবং জমিদার পরিবারের বিবিদের গোসলের জন্য অন্দর মহলের ভিতরে খনন করা হয়েছিল আরো একটি দর্শনীয় পুকুর। তৃতীয় প্রজন্মের বংশধর বর্তমানে উক্ত জমিদার বাড়ীটি দেখাশুনা করেছেন।

 

তাতিবন্দ বিজয় গোবিন্দ চৌধুরী জমিদার বাড়ী(বাম পাশেরটি)

 

আনুমানিক ২০০ বছর আগে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার তাঁতিবন্দ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্ম হয় জমিদার বিজয় গোবিন্দ চৌধুরীর। তাঁর বাবার নাম গুরু গোবন্দি চৌধুরী। তৎকালীন নাটোরকালেক্টরেটের সেরেস্তাদার উপেন্দ্র নারায়ন চৌধুরী তাঁতিবন্দ জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেও তদ্বংশীয় খ্যাতিমান পুরুষ বিজয় গোবিন্দ চৌধুরীর শাসনামলেই তাঁতিবন্দসহ আশপাশের এলাকায় তাদের জমিদারিত্বের প্রভাব প্রতিপত্তি ছড়িয়ে পরে। তার জমিদারী আমলে প্রজাগনের বিনোদনের জন্য জাকজমকপূর্ন পূজা পার্বনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি হস্তী নাচের ব্যবস্থা করা হতো। এ জন্য তিনি একাধিক হাতি পালন করতেন। তবে ব্যয় বহুল হাতি পালনের জন্য প্রজা বর্গের নিকট হতে হস্তি পোষনার্থী হাতি খরচ নামে বাজে জমা আদায় করা হতো। তিনি তার জমিদারিত্বের কার্যকালে শতাধিক বিঘা জমির উপর জমিদার বাড়ী নির্মান করেছিলেন। বিশাল মনোমুগ্ধকর এ বাড়ীর এক তৃতীয়াংশ জুড়ে নির্মান করা হয়েছিল অত্যাধুনিক ডিজাইনের একাধিক অট্টালিকা, পূজা মন্দির, দিঘী এবঙ দুটি সুউচ্চ দর্শনীয় মঠ। জমিদার বিজয় গোবিন্দ চৌধুরীর বিভিন্ন ঐতিহাসিক কৃতির মধ্যে মঠ দুটিই ছিল স্মৃতিচারীত করার মত। পাবনা জেলার প্রতিটি মানুষের কাছে মঠ দুটি ছিল বিজয় বাববুর মঠ নামে পরিচিত। অত্যন্ত কারুকার্য খচিত ব্যয়বহুল এই মঠ দুটি দেখতে ঐ সময় বিভিন্ন জেলার লোক বিজয় গোবিন্দ চৌধুরীর জমিদার বাড়ীতে আসতেন। যুগের বিবর্তনে এবং সময়ের পালাক্রমে স্বর্গীয় জমিদার বিজয় গোবিন্দ চৌধুরীর সকল স্থাপনা ধ্বংস হতে চললেও আজো পাবনা এবং সুজানগর বাসীর মনে প্রানে চির স্মরনীয় হয়ে আছে বিজয় গোবিন্দ চৌধুরীর কর্মযগ্যের ইতিহাস।

 

নাজিরগঞ্জ ফেরি ঘাট

 

 

আন্তঃবিভাগ পদ্মা নদীর এক পার্শ্বে নাজিরগঞ্জ ফেরীঘাট ও অপর পার্শ্বে রাজবাড়ী জেলার ধাওয়া পাড়া ফেরীঘাট। এই ফেরী ঘাটের মাধ্যমে উত্তর বঙ্গ ও দক্ষিন বঙ্গের যানবাহন ও লোক পারাপার হয়ে থাকে। নাজিরগঞ্জ ফেরীঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার মত।

 

 

শাহমাহাতাব উদ্দিন (রঃ) মাজার শরিফ

 

 

সুজানগর উপজেলা থেকে সড়ক পথে প্রায় ৩০ কি.মি. পূর্ব দিকে সাগরকান্দি ইউনিয়নের তালিমনগর স্লুইচগেট সংলগ্ন রাস্তার প্রায় ১ কি.মি. পশ্চিম দিকে শ্যামগঞ্জ বাজার হয়ে প্রায় ২০০ মিটার পশ্চিম দিকে পুকুরনিয়া গ্রামে (সাতানি মাজার নামে পরিচিত) শাহমাহাতাব উদ্দিন আউলিয়ার মাজার শরীফে যাওয়া যায়।